সুনামগঞ্জে ১২ ইউপিইটিসি চলছে মাত্র ১২ জনে, থমকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ

সুনামগঞ্জে ১২ ইউপিইটিসি চলছে মাত্র ১২ জনে, থমকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২২/০৭/২০২৬ ১৭:৪৩:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিখন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত গবেষণার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো (ইউপিইটিসি) সুনামগঞ্জে চরম জনবল সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে। জেলার ১২টি উপজেলায় মঞ্জুরিকৃত ৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন কর্মী। অর্থাৎ দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭৫ শতাংশ বা ৩৬টি পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষকরা, আর স্থবির হয়ে পড়েছে সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইউআরসি’ (উপজেলা রিসোর্স সেন্টার) থেকে পরিবর্তন করে ‘ইউপিইটিসি’ (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র) নামকরণ করে। তবে কেবল নাম পরিবর্তন হলেও সুনামগঞ্জের কেন্দ্রগুলোতে নতুন নিয়োগ বা অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়ন

​জেলার বিশ্লষণধর্মী চিত্রে দেখা যায়, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় ইউপিইটিসির চারটি পদের একটিতেও কোনো লোকবল নেই। এর মধ্যে সদর উপজেলার ইনস্ট্রাক্টরকে বিশ্বম্ভরপুরের এবং সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ের একজন ইনস্ট্রাক্টরকে তাহিরপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

​অন্যদিকে জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও ধর্মপাশা এই চার উপজেলায় কেবল একজন করে ইনস্ট্রাক্টর কর্মরত রয়েছেন। পিয়ন, নাইটগার্ড কিংবা অফিস সহায়কের পদ খালি থাকায় ইনস্ট্রাক্টরদেরই এসব দাপ্তরিক ও নিম্নপদের কাজ করতে হচ্ছে। ছাতক, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলায় ইনস্ট্রাক্টর ও নাইটগার্ড থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে সহকারী ইনস্ট্রাক্টর ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদ। এছাড়া নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলায় এখনো কোনো পদই সৃষ্টি করা হয়নি; পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলা থেকে সেখানকার কার্যক্রম কোনোমতে টেনে নেওয়া হচ্ছে।

​প্রতিটি ইউপিইটিসিতে মূলত একজন ইনস্ট্রাক্টর, একজন সহকারী ইনস্ট্রাক্টর, একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও একজন নাইটগার্ড থাকার কথা। শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিখন পদ্ধতির প্রয়োগ, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও ফিডব্যাক মেন্টরিং, সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ এবং প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এ অফিসের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। কিন্তু মারাত্মক জনবল সংকটে হাওরাঞ্চলের শিক্ষকরা যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

​জানা যায়, ইনস্ট্রাক্টর ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদে বিসিএস (নন-ক্যাডার) থেকে এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও নাইটগার্ড পদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কেন্দ্র পর্যায়ে নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, সুনামগঞ্জে মাঝে মধ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ পেলেও হাওরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তাঁরা দ্রুত অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান।

​সদর উপজেলা ইউপিইটিসির ইনস্ট্রাক্টর সৈয়দ সাহলান আহমদ জানান, জনবল সংকটের কারণে স্বাভাবিক অফিসিয়াল কাজ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাতে তাঁদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

​পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ শেরগুল আহমেদ বলেন, হাওর একটি ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল। এখানকার জন্য জাতীয় পলিসি দিয়ে সমাধান হবে না, দরকার বিশেষ পলিসি ও প্রণোদনা। প্রয়োজন হাওর অঞ্চল নিয়ে আলাদা চিন্তা বা পৃথক মন্ত্রণালয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হাওরকে আলাদাভাবে বিবেচনা না করে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না, ততক্ষণ এই সংকট কাটবে না।

​সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ের সুপার দীপঙ্কর মোহান্ত জানান, ইউপিইটিসিগুলোতে সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার স্বার্থে অতি দ্রুত শূন্য পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হচ্ছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad