সার্কুলার ইকোনমির নতুন দিগন্ত
হবিগঞ্জে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রাণ-আরএফএল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্লান্ট, যা পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এখানে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক চেয়ার, বোতল, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান কাঁচামাল ‘রেজিন’। এই রেজিন দিয়েই পুনরায় তৈরি হচ্ছে শতাধিক গৃহস্থালি ও শিল্প পণ্য। এর মাধ্যমে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে আরএফএল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘টেল প্লাস্টিকস’ প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০ টন প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করছে। এতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। রিসাইক্লিংয়ের ফলে শুধু অর্থনৈতিক সাশ্রয়ই হচ্ছে না, বরং প্রতি কেজি পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক ১.০৮ কেজি কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করছে। কারখানায় বর্জ্য পানি শোধনের জন্য আধুনিক ইটিপি ব্যবস্থা থাকায় এটি পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করছে। এই শিল্পে বর্তমানে সরাসরি ১ হাজার ২০০ জন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
টেল প্লাস্টিকসের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১২টি বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র থাকলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, উন্নত দেশে রিসাইক্লিং শিল্পে প্রণোদনা দেওয়া হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে পুনর্ব্যবহৃত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যা এই খাতের প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: