দিশেহারা ভুক্তভোগীরা
দিরাইয়ে বরাম হাওরে কৃষকের ধান লুটের মহোৎসব
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তলিয়ে যাওয়া ধান লুটের ঘটনা থামছেই না। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে প্রকাশ্যে নৌকাযোগে এসে কাদিরপুর ও ধল আমিরপুর গ্রামের একদল দুর্বৃত্ত ভাঙাডহর গ্রামের চপল মজুমদার, সুখময় দাস ও বিপুল দাসের জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং দুর্বৃত্তরা ঔদ্ধত্যের সাথে জানায়, "সবাই কাটে, তাই আমরাও কাটছি।"
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চপল মজুমদার জানান, ধান লুটের দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে ধল আমিরপুর গ্রামের আবু ছালিকসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। এর আগেও বরাম হাওরের ভাঙাডহর ও ডাইয়ারগাও এলাকায় একইভাবে ধান লুটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল দাসের ভাষ্যমতে, রোদ ওঠায় হাওরের পানি কিছুটা কমলে তলিয়ে যাওয়া ধান ভেসে ওঠে। এই সুযোগে নোয়াগাঁও-সন্তোষপুর, বাউসী ও চন্দ্রপুর এলাকার কিছু সুযোগসন্ধানী লোক সংঘবদ্ধভাবে ধান লুটে নেমেছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, এর আগে মঙ্গলবার পুলিশ পাঠিয়ে সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ধান কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে লুটের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, কৃষকের ফসল লুটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: