অস্তিত্ব সংকটে কাওয়াদিঘী হাওর: হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য
এক সময়ের জীবন্ত জলাভূমি মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর এখন দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি আর শীতের অতিথি পাখির কলকাকলিতে একসময় মুখর থাকলেও, বর্তমানে হাওরটি তার স্বাভাবিক রূপ ও জীববৈচিত্র্য হারাতে বসেছে।
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর এলাকা রাজনগরে এবং বাকি অংশ সদর উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকা এই হাওরের ওপর ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল হলেও সচেতনতার অভাব ও অযত্নে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। রাজনগরের বাসিন্দা রহিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "আগে ভোরে কুয়াশা ভেদ করে নৌকা চলার যে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যেত, এখন আর তেমনটি চোখে পড়ে না।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাওয়াদিঘী হাওর শুধু স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি নয়, বরং এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায়ও এর গুরুত্ব অপরিসীম। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এখানে ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। নৌভ্রমণ, পাখি পর্যবেক্ষণ ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের মাধ্যমে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে পারে। তবে কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগের অভাবে হাওরটি তার আদি বৈশিষ্ট্য চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কাওয়াদিঘী হাওর রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: