বজ্রপাত ও জোঁকের ভয়: হবিগঞ্জে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত
Led Bottom Ad

ক্ষতির মুখে লাখো কৃষক

বজ্রপাত ও জোঁকের ভয়: হবিগঞ্জে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৭/০৫/২০২৬ ১৯:০৮:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি; একদিকে আকাশজুড়ে বজ্রপাতের আতঙ্ক, অন্যদিকে পানিতে নিমজ্জিত জমিতে জোঁকের ভয়—এই দ্বিমুখী আশঙ্কায় শ্রমিকরা জমিতে নামতে অনীহা প্রকাশ করায় জেলাজুড়ে শ্রমিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কৃষি বিভাগ শ্রমিক জোগাড়ের নানা উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৩৯ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৬৭২ জন কৃষক।

সরেজমিনে বানিয়াচং ও লাখাইসহ বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের রোদে কৃষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পচন ধরা ও চারা গজানো ধান শুকাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।

বানিয়াচংয়ের সুবিদপুর গ্রামের কৃষক হরেন্দ্র সরকার আক্ষেপ করে জানান, কেটে আনা ধানগুলোতে চারা গজিয়ে গেছে আর শ্রমিকরা বজ্রপাত ও জোঁকের ভয়ে জমিতে নামতে না চাওয়ায় বাকি ধানগুলো মাঠেই পচছে।

লাখাইয়ের গোয়াখারা গ্রামের কৃষক ইলিয়াছ মিয়া ও বাবুল মিয়া জানান, শ্রমিকের অভাবে নিজেরা বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটলেও সরকারি গোদামে সেই ধানকে মানহীন বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ দালালের মাধ্যমে ঠিকই সেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দালালের খপ্পরে পড়ে এবং ঋণের চাপে অনেক কৃষক কম দামে ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উদ্যান) দ্বীপক কুমার পাল জানান, মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে আছেন এবং শ্রমিক সংকট মেটাতে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে; সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এ বছর বজ্রপাতে মৃত্যুহার কমাতে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে এবং হাওরে কৃষকদের আশ্রয়ের জন্য ছোট ছোট ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এখন পর্যন্ত কাটা হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার ৭৩৯ হেক্টর এবং এখনো ৭৮ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের কৃষিজীবী মানুষের।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad