হাওরাঞ্চলে হারভেস্টার ভাড়ায় চরম নৈরাজ্য
Led Bottom Ad

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে দিশেহারা কৃষক

হাওরাঞ্চলে হারভেস্টার ভাড়ায় চরম নৈরাজ্য

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২২/০৪/২০২৬ ১১:৪৯:০১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে ডিজেল সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। সময়মতো ধান কাটতে না পারার শঙ্কার পাশাপাশি অস্বাভাবিক বাড়তি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কম্বাইন হারভেস্টারের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও মেশিন মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া দাবির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মাত্র এক বছর আগেও প্রতি একর জমির ধান কাটতে যেখানে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কৃষক সেলিম রেজা চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এক একর জমি কাটতে ১২ হাজার টাকা দিতে চাইলেও সময়মতো হারভেস্টার পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে সার, বীজ ও সেচের খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে কাটাই-মাড়াইয়ের খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক চাষি।

হারভেস্টার মালিক ও চালকদের দাবি, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের কারণে তাদেরও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার হারভেস্টার মালিক মঈনুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তার ছাড়পত্র নিয়েও ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডিজেল মিলছে না। বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনে মেশিন চালাতে হচ্ছে। এছাড়া যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া না বাড়িয়ে তাদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, জেলায় প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই। নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে বিতরণে কিছুটা জটিলতা থাকলেও প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে বর্তমানে ১ হাজার ৪৭৩টি হারভেস্টার সক্রিয় থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা এখনও অপর্যাপ্ত।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad