সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি
হাওরে ধান পরিবহনে কৃষকের চরম ভোগান্তি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও ধান পরিবহনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। হাওরের গভীর থেকে পাকা ধান খলায় (ধান শুকানোর স্থান) আনতে গিয়ে ভাঙাচোরা ও কাদামাটির সড়কে প্রতিদিন তাঁদের নাজেহাল হতে হচ্ছে। কোথাও যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গর্তে আটকে থাকছে, আবার কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকের লাভের অংশ কমে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ফসল রক্ষায় সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করলেও ধান পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা মেরামত বা পাকাকরণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের। শনির হাওরের কৃষক জামাল মিয়া জানান, সড়ক ভালো না থাকায় প্রতি বস্তা ধান খলায় আনতে ট্রলি ভাড়া বাবদ ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি গুণতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে মাটির রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে ট্রলি বা পিকআপ চলাচল একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়াসহ অনেকেরই দাবি, শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি এই পরিবহন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, টিআর-কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু জাঙ্গাল (মাটির উঁচু সড়ক) মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, টেকসই ও পাকা সড়ক না থাকায় কৃষকদের খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে। হাওরবাসীর দাবি, ফসল রক্ষা বাঁধের মতোই ধান পরিবহনের সড়কগুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত টেকসই ও পাকা সড়ক নির্মাণে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় কৃষকদের কষ্টের ফসলের বড় একটি অংশ পরিবহন খাতেই লোকসান হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: