ধান কাটায় দ্বিগুণ খরচ
শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটে হবিগঞ্জের বোরো চাষিরা দিশেহারা
হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে বোরো ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও কৃষি শ্রমিক ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। ডিজেল সংকটের কারণে হাওরে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনগুলো পুরোদমে চালানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক না আসায় ধান কাটায় গতি আসছে না। ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন চাষিরা।
চলতি বছর হবিগঞ্জে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৮ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। বানিয়াচং উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফসহ একাধিক চাষি জানান, গত বছর এক বিঘা জমির ধান কাটতে যেখানে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা খরচ হতো, এবার তা বেড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডিজেল সংকটের সুযোগে হারভেস্টার মালিকরা বিঘা প্রতি প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে ধান পেকে গেলেও তেল ও শ্রমিকের অভাবে তা কাটতে দেরি হওয়ায় শিলাবৃষ্টি ও আগাম বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
হারভেস্টার মালিকরা জানিয়েছেন, একটি মেশিনের জন্য দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে মাত্র ২০-৩০ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনে কাজ করতে হচ্ছে। অগ্রদূত ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা চালক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "১০ লিটার তেল দিয়ে কী করব? ধান কাটব, নাকি মেশিন চালিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে রাখব?" এ বিষয়ে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বনি আমিন খান জানান, হারভেস্টার চালকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড' প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: