ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
কোম্পানীগঞ্জে সাদা পাথর লুটচক্রের এবার 'বিল লুট'
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আলোচিত পাথর লুটচক্রের বিরুদ্ধে এবার জলমহাল দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে জীবন মেম্বার ও তাঁর ভাই ইকবাল হোসেন আরিফসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধলিয়া-কালিয়া জলমহালের ‘গুল বিল’ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ইজারাদার ও ধুলিয়া সাতবিলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান গত ১৩ এপ্রিল সিলেটের একটি আদালতে এই মামলাটি করেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুর রহমান ১৪৩২ থেকে ১৪৩৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ২৯৮ একর আয়তনের এই বিলটি ইজারা পান এবং প্রায় ৭ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়েন। অভিযোগ রয়েছে, গত ২ এপ্রিল রাতে জীবন মেম্বারের নেতৃত্বে একদল লোক বিলে হামলা চালিয়ে জাল দিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। জীবন মেম্বার ও তাঁর ভাই আরিফ আগে থেকেই আলোচিত ‘সাদা পাথর’ লুটের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তালিকায় রয়েছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন মামলায় জেল খাটা এবং ইউপি সদস্য পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জীবন মেম্বার উচ্চ আদালতের মাধ্যমে পদে ফিরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ইজারাদার আমিনুর রহমানের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনি ইউএনও ও ওসির কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন নীরব ছিল, যার সুযোগ নিয়ে এই লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযুক্ত জীবন মেম্বার তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দায় এড়িয়ে বলেন, জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের, কিন্তু দখল ধরে রাখা এবং আইনি প্রতিকার দেওয়া পুলিশের কাজ। অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুর রহমান খান এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। পাথর খেকো হিসেবে পরিচিত এই চক্রের হাতে জলমহাল আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: