শাবিপ্রবিতে বৈসাবি উৎসবের ছুটি নেই
বাড়ি ফিরতে পারছেন না ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা
বছরের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব 'বৈসাবি' ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলে যখন আনন্দের আমেজ, তখন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিষণ্নতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ছুটি না থাকায় ক্লাস ও পরীক্ষার চাপে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী এবারও পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শাবিপ্রবিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।
পার্বত্য অঞ্চলের ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর কাছে বৈসাবি একটি প্রধান সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব। ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই এবং চাকমারা বিজু নামে এই উৎসব পালন করেন। ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল—এই তিন দিন পাহাড়ে উৎসবের ধুম পড়ে গেলেও শাবিপ্রবিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম সচল থাকায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি যেতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস, সাস্ট’ দীর্ঘ ধরে ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।
সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি অমিতাভ ভূষণ ত্রিপুরা অমিত বলেন, “এটি আমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। পরিবারের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া আমাদের সাংস্কৃতিক অধিকার। অথচ ক্লাস-পরীক্ষার কারণে আমাদের বঞ্চিত হতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি নির্ধারণ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। তিনি বলেন, “ছুটি কমিটি প্রস্তাব করার পর তা একাডেমিক কাউন্সিলে পাস হতে হয়। শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।”
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই তাদের এই বঞ্চনার শিকার হতে হবে। তাঁরা অবিলম্বে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে বৈসাবি উৎসবের জন্য নির্ধারিত ছুটির অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: