আমাদের হেডস্যার!
যার শিক্ষাতে মানুষ হলাম
আমি,ছোটন, মঞ্জু, তানভীর,
আরও কতো তকির,
পরম যত্নে দিলেন দীক্ষা
আমাদেরকে আসল শিক্ষা
হৃদয় মাঝে অম্লান যে নাম
আব্দুল মান্নান ফকির!
কবিতার শেষে যে সম্মানিত নামটি আমি লিখতে পেরেছি সে নামটি আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন আমাদের হেডস্যারের। অবহেলিত কয়েকটি জনপদের বিদ্যাশিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ ছিল, বর্তমান দিরাই উপজেলার জগদল ইউপির সিকন্দরপুর গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ হাইস্কুল। আমাদের হেডস্যারের সময়ে এই বিদ্যালয়ের ছিল স্বর্ণযুগ! যে সময়ের গর্বিত স্বাক্ষী হয়েছিলাম আমরাও। এখনকার স্কুলের কার্যক্রম আমার বোধগম্য নয়। তবে চেহারা দেখে সহজেই অনুমেয় যে কেমন আছে প্রিয় বিদ্যাপীঠ!
ফেসবুকে ছিলাম অনেক রাত অবধি। হঠাৎ টাইমলাইনে মাসুদূল হাসান দোলন মামার পোস্টানো এক আলোকচিত্র! সেই আলোকচিত্রটি আমাদের আলোকবর্তিকা প্রিয় হেডস্যারের। অনেকবছর পূর্বে স্যারকে নিয়ে লিখেছিলাম কিন্তু লেখাটি অনেক চেষ্টা করেও খুঁজে পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আবারও নতুন করে লিখতে হলো। স্যারের সাথে অনেক মজার মজার অনেক ঘটনাবলী আমাদের অনেকের আছে। মিষ্টি শাসনের মধ্যে অনেকের ভয়েরও কারণ ছিলেন তিনি।
মাসুদূল হাসান দোলন মামা স্যারকে নিয়ে আমাকে মন্তব্যে লিখেছেন-'একজন আপাদমস্তক কল্যাণকামী মানুষ ছিলেন তিনি! আমাদের জীবনকে অন্য উচ্চতায় নিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।'
আমি বলবো,মামা স্যারকে নিয়ে যেটা বলেছে একেবারে নিরেট সত্য! এখনকার অনেক শিক্ষক শিক্ষাকে আজ ব্যবসায় পরিণত করেছেন। আমাদের সময়ে মোটেই তা ছিল না!
যেখানে ক্লাসের গুরুত্ব কমিয়ে কোচিং, প্রাইভেট ও গাইড-নির্ভর পড়াশোনাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ঘটাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদ ও মতামত প্রকাশে এসেছে। কিছু শিক্ষক বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করছেন এবং নতুন শিক্ষাক্রমের কারণেও কোচিং বাণিজ্যের প্রবণতা বেড়েছে।
আমাদের হেড স্যারের সময়ে, আমরা অনেকেই স্কুল ছুটি শেষে হেড স্যারের কাছে কিছু সময় ফ্রি প্রাইভেট পড়েছি। আমার এসেএসসি পরিক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা যোগাড় হচ্ছিল না। স্যারকে বিষয়টি বলতেই আমাকে ধমকিয়ে বললেন-"সেটা আগে কইবি না বেডা! ঠিকাছে চিন্তা করবি না আমি দেহি কী করা যায়।" পরেরদিন, স্যারে বললেন -"এই বেডা, তোর ট্যাহা দেওয়া আছে,যা নিশ্চিন্তে ফরম ফিলাপ করগে। কিন্তু সাবধান! আমার কথা কাউকেই কইবি না।"
সেদিন স্যারের সেই মহানুভবতা আমি আজও ভুলিনি ভুলতে পারবোই না।
মজার ব্যাপার হলো,স্যার খুবই ভোজনরসিক ছিলেন। লজিং খাওয়ার পরেও পেট না ভরলে স্যার নিজ আলয়ে একা একা পাক করেও খেতেন। খাওয়ার প্রতি স্যারের প্রচণ্ড দুর্বলতা ছিল। স্যার যখন কলা খেতেন একসাথে দুই হালি! কাঁঠাল খেলে মাঝারি আকারের আস্ত একটা। খাবার নিয়ে স্যারের আরও অনেক মজার ঘটনা আছে। যে ঘটনা বর্ণনা করলে রীতিমতো একটা গ্রন্থ হয়ে ওঠবে।
স্মৃতির গবাক্ষে ভেসে ওঠে আজও স্যারের সেই মুচকি হাসির অনিন্দ্য আনন। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন আমাদের প্রিয় বিদ্যাসারথি।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক
পাইকাপন,দরগাপাশা,শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: