অভিভাবকদের মনে ক্ষোভের আগুন
ধর্মপাশার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার শরিশ্যাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—হাওরের দুঃসহ জীবন সংগ্রামের মাঝেও যেখানে ছোট্ট শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যৎ গড়ার। অথচ সেই বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক চৌধুরী তোহিদুল নবীর বিরুদ্ধে উঠেছে এমনসব অভিযোগ, যা অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনেও তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের আগুন জ্বেলে দিয়েছে।
২৭ নভেম্বর বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়—সকাল ৯টার ক্লাস শুরু হয়ে গেছে, শিশুদের কোলাহলে পুরো আঙিনা ভরপুর। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তখনও আসেননি। শিক্ষার্থীরা তাকিয়ে আছে দরজার দিকে, শিক্ষকরা বিব্রত। প্রায় প্রতিদিনই নাকি এমনটি ঘটে। ১০টা, কখনো ১১টা—এর আগে তাকে খুব কমই দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে তিনি নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘চার্জার আনতে দেরি হয়ে গেছে।’ উপস্থিত সবাই তখনও বুঝে ওঠার চেষ্টা করছিলেন—এটাই কি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ববোধ?
সহকারী শিক্ষকরা জানালেন আরও বেদনাদায়ক চিত্র। একই কক্ষে একসঙ্গে দুটি ক্লাস বসানোর মতো অস্বাভাবিক নির্দেশ দেন প্রধান শিক্ষক। শিশুরা পড়তে পারে না, শিক্ষকরা পড়াতে পারেন না—অস্থিরতা আর শব্দে ক্লাসরুম হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির ঘর। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ তালা মেরে নিজের মতো করে ব্যবহার করেন। টেবিল–চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকলেও শিক্ষকদের ব্যবহার করতে দেন না। শিক্ষকরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘উনি কারও কথা শোনেন না।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা গেল, তাদের মনেও জমেছে ক্ষোভ। একজন ছোট্ট শিক্ষার্থী জানায়,‘একই রুমে দুইটা ক্লাস হয়। এত শব্দ হয় যে কিছুই বুঝি না।’
অভিভাবক আর পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, বিদ্যালয়ের আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রধান শিক্ষক কখনোই পরিষ্কার করে দেখান না। দুপুরের আগেই বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগটিও তিনি নাকি এককভাবে ব্যবহার করেন—অন্য শিক্ষকরা বঞ্চিত।
বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের অর্থের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি প্রথমে কাগজপত্র দেখানোর কথা বলেন। পরে চাবি খোঁজা, আলমারি খোলার অজুহাত—অবশেষে কিছুই দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সাহেব, আপনাদের সঙ্গে কিছু গোপন কথা আছে।’ পরে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বিকাশ নম্বর চান—যা উপস্থিত সবার মনকেই আরও ভারী করে তোলে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনবেন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: