২৮ বছর পর হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন স্থগিত, হাইকোর্টের আদেশ
দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
এর আগে নির্বাচনের এক দিন আগে নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপিপন্থী আটজন শিক্ষক। প্রশাসনের নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে অপারগতা প্রকাশ করে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছি না। আমরা আহ্বান জানাব, অন্যরাও যেন দায়িত্ব পালন না করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের আচরণে আমরা বিব্রতবোধ করছি। ভাইস চ্যান্সেলরকেও জানিয়েছি—এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত কি না। নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ২০০ শিক্ষক প্রয়োজন। আমাদের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা পোষণকারীরাও দায়িত্ব থেকে সরে আসবেন।’
অন্যদিকে শাকসু নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে দেশব্যাপী কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট—শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই, অর্থাৎ অবশ্যই আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক চাপ, হুমকি কিংবা পেশিশক্তির কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাবিপ্রবির প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি শাকসু নির্বাচন। যখন প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, ক্যাম্পাসজুড়ে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রশাসন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, ঠিক তখনই একটি মহল পেশিশক্তির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।’
এ রহমান
মন্তব্য করুন: