বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুলাউড়ায় একই সড়কের নাম বদলে দুইবার সরকারি বরাদ্ধ গ্রহণ
কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ৬নং নর্তন ওয়ার্ডে একই সড়কের নাম পরিবর্তন করে দুই দফায় সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামালের বিরুদ্ধে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই ভুয়া প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম দফায় 'কাবিটা' প্রকল্পের আওতায় 'আব্দুল জলিল জামাল সাহেবের বাড়ির রাস্তা' নাম দিয়ে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সরজমিনে দেখা যায়, রবিরবাজার পাকা রাস্তা থেকে শুরু করে জামাল সাহেব ও তার চাচাতো ভাই এনাম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি আগেই ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তায় নতুন করে কোনো কাজ করার সুযোগ বা প্রয়োজনীয়তা নেই।
অভিযোগ রয়েছে, রাস্তাটির কাজ শেষ হওয়ার পরও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার নীল নকশা অনুযায়ী, একই সড়ককে এবার 'এনাম মিয়ার বাড়ির রাস্তা' হিসেবে দেখিয়ে 'এডিপি' প্রকল্পের আওতায় পুনরায় ৩ লাখ টাকা আরসিসি ঢালাইয়ের বরাদ্দ আনা হয়েছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল জলিল জামাল এবং এনাম মিয়া সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই এবং একই বাড়ির বাসিন্দা। একই সড়কের নাম কৌশলে পরিবর্তন করে দুইবার সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার মাধ্যমে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিতর্কিত করছেন এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন।
স্থানীয়রা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি যদি এভাবে সরকারি অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত থাকেন, তবে তিনি জনগণের জন্য কী ভূমিকা রাখবেন? সামনে আসন্ন নির্বাচনে তিনি পুনরায় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও, জনগণের করের টাকা এভাবে আত্মসাৎকারী একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে উন্নয়নের নামে আরও লুটপাটের আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।" এমন অনিয়মের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: