সুনামগঞ্জে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা বিস্যুদবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত
সুনামগঞ্জে শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারে অনুষ্ঠিত বিস্যুদবারের নিয়মিত সাহিত্য আড্ডায় বক্তারা বলেছেন, নজরুল যখন “সাম্যবাদী” রচনা করেন, তখন উপমহাদেশে সামাজিক বৈষম্য, ঔপনিবেশিক শোষণ ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন চরমে। ঠিক এই অন্ধকার সময়েই তিনি ঘোষণা করেন—
“গাহি সাম্যের গান—যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান।”
এই পঙ্ক্তি শুধু কাব্যিক উচ্চারণ নয়, এটি এক দৃষ্টান্তমূলক রাজনৈতিক ও মানবিক ঘোষণা। নজরুল দৃঢ়ভাবে বলেন—মানুষের শ্রেণি, জাত, বর্ণ, ধর্ম কোনো কিছুই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করতে পারে না। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ সমান; প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান।
বক্তারা বলেন, নজরুলের সাম্যবাদ সমাজতন্ত্রের কোনো কঠোর তাত্ত্বিক রূপ নয়; এটি গভীর মানবতাবাদে ভরপুর। তিনি যে সমাজের ছবি আঁকেন, সেখানে শ্রমিক-কৃষক, ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলমান, নারী-পুরুষ সবাই একই সারিতে দাঁড়ায়। তিনি বলেন—“আমি চির-বিদ্রোহী বীর—বিশ্বে আনিবে আনন্দ-অশ্রু为 সমতার ললাটে তিলক।” এখানে কবি যেন ঘোষণা করছেন: বিদ্রোহ তাঁর অস্ত্র, আর সমতা তাঁর লক্ষ্য।
সাহিত্য আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন কবি ও প্রাবন্ধিক সুখেন্দু সেন হারু। কবি সাজাউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক অনুপ নারায়ণ। নজরুলের "সাম্যবাদী" আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ পূর্বক ধারাবাহিক সাহিত্য আড্ডায় আলোচনায় অংশগ্রহন করেন- কবি সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, কবি ইকবাল কাগজী, কবি কুমার সৌরভ,সুবল বিশ্বাস,পাপ্পু আহমেদ, কবি মানবেন্দ্র কর,কবি সুরঞ্জিত সঞ্জু, শিল্পী আদিল আরমান প্রমুখ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: