ইতিহাসের সাক্ষী আরেক নিদর্শন হারাচ্ছে নগর
ভেঙে ফেলা হচ্ছে সিলেটের শতবর্ষী ‘মিনিস্টার বাড়ি
সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী “মিনিস্টার বাড়ি” এখন হাতুড়ি-শাবলের আঘাতে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে। শতবর্ষী স্থাপত্যের নান্দনিক এ ভবনটি ধ্বংস হতে দেখে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
বাড়িটির নির্মাতা ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক আব্দুল হামিদ। তিনি ব্রিটিশ আমলে আসাম সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নামেই পরবর্তীতে এই বাড়িটি “মিনিস্টার বাড়ি” নামে পরিচিতি পায়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো ভবনটি ভাঙার কাজ চলছে। বাড়ির দরজা-জানালা খুলে ফেলা হয়েছে, ছাদে হাতুড়ি-শাবলের আঘাত পড়ছে অবিরত। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ভবনটি নাকি “ব্যবহার অনুপযোগী” হয়ে পড়ায় মালিকপক্ষ নিজেরাই ভেঙে ফেলছেন। পরবর্তীতে এখানে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে ভবনটির সামনে বিক্রির সাইনবোর্ডও ঝুলানো হয়েছিল। সেটি বিক্রি হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাড়ির মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা দেশের বাইরে অবস্থান করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা, সিলেট’ এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, “সিলেটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা খুব বেশি অবশিষ্ট নেই। এমন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ভেঙে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি শুধু একটি ভবন নয়, সিলেটের ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি প্রতীক ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি, তবু মালিক চাইলে সংস্কার করে সংরক্ষণ করা যেত। শতবর্ষী ভবন ভাঙা সহজ, কিন্তু এমন নিদর্শন তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। রেজাউল করিম আলো লিখেছেন, “শুধু ছাদে ফাটল থাকার কারণে এমন ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও, এমন নান্দনিক ইমারত এখন আর তৈরি করা সম্ভব নয়।”
জালাল আহমেদ জালাল মন্তব্য করেন, “সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পথে এই বাড়িটি সবসময় চোখে পড়ত। শুনেছি, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এখানে অবস্থান করেছিলেন।”
ইতিহাস অনুসারে, আব্দুল হামিদ ছিলেন তৎকালীন আসামের এমএলএ ও শিক্ষা মন্ত্রী। পরবর্তীতে দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তার বোন হাফিজা বানু ছিলেন আইনজীবী আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের স্ত্রী এবং বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএ আব্দুল মোমেন–এর দাদী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: