প্রশাসনে চলছে পরিবর্তনের প্রস্তুতি
প্রশাসনে চলছে পরিবর্তনের প্রস্তুতি । ব্যক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিকে নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে এই পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে সরকার।
পদোন্নতি, দপ্তর পরিবর্তন, অবসর গ্রহণ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এই চারটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে ছয় থেকে ১০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে এই পরিবর্তন আসতে পারে।
নতুন মুখ দেখা যেতে পারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, ভূমি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই সচিব পর্যায়ের এই রদবদলের আদেশ জারি হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
যেসব সচিবের চাকরির মেয়াদ বা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এর ব্যতিক্রমও আছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনকে আরে গতিশীল ও কার্যকর করতে সততা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ে নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মদক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ জুলাই অবসরে যাচ্ছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন অক্টোবরে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এ দুজনকেই এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রথমে রাষ্ট্রপতির সচিব, পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা সর্বশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. এহছানুল হক। তিনি ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।
ড. নাসিমুল গনি ও মো. এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদেও আসতে পারে নতুন মুখ।
জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ভূমিসচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সাবেক শিল্পসচিব ওবায়দুর রহমান, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা-পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মো. শাহজাহান মিয়া, মো. ফজলুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান, সাবেক সচিব জাকির হোসেন কামাল, সাবেক সচিব এ কে এম ইহসানুল হক ও মো. শেখাবুর রহমানও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসতে পারেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত মোট ৮৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জন কর্মকর্তা বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
বর্তমান সরকার গঠনের আগে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের দুজন কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে গেছেন। একজন হলেন মন্ত্রিপরিষদসচিব শেখ আবদুর রশীদ, অন্যজন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
এ ছাড়া গত মাসে অবসরে গেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভুইয়া।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরো যাঁরা অবসরে যাচ্ছেন, তাঁরা হলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। সরকারের লক্ষ্য হলো এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষ, সৎ ও কর্মক্ষম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা আরো বাড়ানো।
জনপ্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সচিব পদে মো. কামাল উদ্দীন, জাহেদা পারভীন, মো. মফিদুর রহমান, মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ফারজানা মমতাজ, মো. ওবায়দুর রহমান, ইসরাত চৌধুরী, মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং কাজী আনোয়ার হোসেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। এরই মধ্যে মেধাভিত্তিক ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে ১৭৯ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় ধরনের পদোন্নতি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, ‘প্রশাসনে নিয়োগ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সারা বছরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ কর্মকাণ্ড চলমান থাকে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা না বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: