টাঙ্গুয়ার হাওরকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য: থানায় অভিযোগ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই অভিযোগ জমা দেন শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী রায়হান আলীম তামিম।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ‘মুহাম্মদ বদরুল আল মতাওহীদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের একটি পর্যটকবাহী হাউসবোটের ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে হাওরটিকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভাষা (ভাসমান জেনালয় অ্যান্ড পতিতালয়ের মর্গ) ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সুনামগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীর মতে, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুধু টাঙ্গুয়ার হাওরের ভাবমূর্তিই নষ্ট করবে না, বরং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। ফলে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও সুনামের ওপর বড় ধাক্কা দিতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী থিয়েটারকর্মী রায়হান আলীম তামিম বলেন-"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবারই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, তার মানে এই নয় যে কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা যাবে। টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং আমাদের পর্যটন খাতের প্রাণ। এর সম্মান ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
অভিযোগের সঙ্গে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিতর্কিত সেই পোস্টের স্ক্রিনশট ও আইডির লিংক সংযুক্ত করে প্রচলিত আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আরিফ উল্লাহ প্রথম সিলেটকে জানান, অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: