ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ মার্কিন সেনা নিহত
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আরো দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর ফলে সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নিহত দুই সেনা জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় নিহত হন। এ ছাড়া ওই হামলার পর একজন মার্কিন সেনাসদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।
সংঘাতটি মূলত আকাশপথে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা দেখিয়েছে যে, স্থলযুদ্ধে অংশ না নিয়েও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শনিবার পর্যন্ত জর্ডানে সর্বশেষ প্রাণহানির বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিবৃতি দেননি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে ১ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় আহত আরেক সেনা মারা যান।
এ ছাড়া মার্চের শেষ দিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে আরো ছয় সেনাসদস্য নিহত হন। সম্প্রতি আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় একজন নৌবাহিনীর পাইলটও নিহত হন।
অন্যদিকে, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। নিহতদের মধ্যে শুক্রবার একটি সেতুতে হামলায় নিহত আটজনও রয়েছেন।
এ ছাড়া চলমান সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে কর্মরত ব্যক্তি, বিদেশি শ্রমিক এবং ইসরায়েল ও লেবাননের আরো বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: