শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর পরম বন্ধু সীতেশ বাবু আর নেই

শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর পরম বন্ধু সীতেশ বাবু আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

১৪/০৭/২০২৬ ১৪:১৪:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং দেশের প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যপ্রাণী সেবাদানকারী সীতেশ রঞ্জন দেব (সীতেশ বাবু) আর নেই। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোড নিবাসী সীতেশ রঞ্জন দেব নিজের প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলেন ‘বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’। সেখানে তিনি বিভিন্ন লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া আহত ও অসুস্থ বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসাসেবা ও আশ্রয় প্রদান করতেন। পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিল। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসা থেকে সীতেশ রঞ্জনের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সাল থেকে শখের বশে বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ শুরু করেন সীতেশ রঞ্জন দেবের বাবা শ্রীশ দেব। বিভিন্ন স্থান থেকে আহত প্রাণী ধরে এনে বাড়িতে সেবা করতেন তিনি। বাবার সেই পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধ দেখেই সীতেশ দেবও এই কাজে উদ্বুদ্ধ হন। ১৯৭১ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গড়ে তোলেন পশুপাখি সেবাশ্রম। পরবর্তীতে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় এটি 'বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন' হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে গিয়ে ১৯৯১ সালে একবার একটি বন্য ভালুকের আক্রমণের শিকার হন সীতেশ রঞ্জন দেব। সেই ঘটনায় তিনি এক চোখ, মুখ ও নাকে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলেন। জীবন সংকটে পড়লেও সুস্থ হয়ে তিনি আবারও বন্যপ্রাণীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে প্রকৃতিপ্রেমী ও শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad