বাহুবলে ১০৩ সরকারি বিদ্যালয়ের একজনও পায়নি বৃত্তি, তদন্তের দাবি
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায়। উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি।
গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে একই সময়ে উপজেলার কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কোনো শিক্ষার্থী বৃত্তি তালিকায় স্থান না পাওয়ায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও কার্যকর পাঠদানের ঘাটতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পর্যাপ্ত মনিটরিং ও জবাবদিহিতার অভাবেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে।
বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. সুমন মিয়া বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক এবং শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল যদি এমন শূন্য হয়, তবে বুঝতে হবে শিক্ষার সঠিক মান নিশ্চিত হচ্ছে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সরকারি বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে।”
তবে এই ফলাফল নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, কোথাও কোনো কারিগরি ত্রুটি বা খাতা মূল্যায়নে গরমিল হয়ে থাকতে পারে। মির্জাটুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাই এই ফলাফলের পেছনে কোনো কারিগরি ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আর আর
মন্তব্য করুন: