সিলেটের ডিসি হিসেবে আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন
টানা ১৮ দিনের নাটকীয়তা, আলোচনা-সমালোচনা এবং রেকর্ড চারজন কর্মকর্তা পদায়নের পর অবশেষে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্থায়ী নিবাস সিলেট বিভাগেরই সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার দেওয়া গ্রামে। তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন জানান, সোমবার নতুন জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার যোগদানের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন সিলেটের বিদায়ী ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে আকস্মিক প্রত্যাহার করার পর থেকে সিলেটে জেলা প্রশাসক পদে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন শুরু হয়। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে এই পদে চারজনকে পদায়ন করা হয়।
সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় তিনি সিলেটে যোগ দিতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সিলেটের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তির কারণে শেষ মুহূর্তে রেজা হাসানের যোগদান আটকে যায়। এমনকি সিলেটে আসার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ফিরে যেতে হয়। পদায়নের ১০ দিন পরও যোগ দিতে না পারায় অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রেজা হাসানের নিয়োগ বাতিল করে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সিলেটের ডিসি পদটি ঘিরে সাম্প্রতিক এই নাটকীয়তার সূত্রপাত হয় হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদায়ী ডিসি মো. সারওয়ার আলমের একটি সাহসী ও বিতর্কিত পদক্ষেপের পর।
গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ ও পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন বাক্স স্থাপন করা হয়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এমন হস্তক্ষেপে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা ও একই সঙ্গে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় ২১ জুন সারওয়ার আলমকে আকস্মিক প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে, তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও মাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার কারণেই তাকে আকস্মিক এই বদলির খড়্গ পোহাতে হয়েছে।
আজ নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের যোগদানের মধ্য দিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
আর আর
মন্তব্য করুন: