হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৫টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পানি নামতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর সামনে এখন পুনরায় পুনর্বাসনের বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা তলিয়ে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধারণা, ঘরবাড়ি, ফসল ও মালামাল মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা দুর্গতদের অনেকের অভিযোগ, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি এবং রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন শিশু ও বৃদ্ধরা। ঘরবাড়ি থেকে আসবাবপত্র বা খাদ্যশস্য কিছুই বের করতে না পারায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে গেলেও বাঁধ ভাঙেনি। অথচ এবার ২২১ সেন্টিমিটারে পানি পৌঁছাতেই বাঁধ ভেঙে যায়। পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী হারুন জানান, নদী থেকে অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদীর ধারণক্ষমতা কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধে অবৈধ বসতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বালু উত্তোলন বন্ধে সতর্কতা দেওয়া হলেও প্রশাসন তা উপেক্ষা করেছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, “বন্যাকবলিত মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে পানি কমছে। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, খোয়াই নদীর বাম তীরে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ কিলোমিটার বাঁধের কাজ চললেও ডান তীরের এই অংশটি দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে জিও ব্যাগ ও ব্লক সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত নকশা প্রণয়ন ও দরপত্রের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে এই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
আর আর
মন্তব্য করুন: