অভিযোগ সিলেটের শিল্পপতি বাবুলের উপর
পুলিশের ছত্রছায়ায় সিলেট নগরে ১ একর ১০ শতক জমি অবৈধভাবে দখল
সিলেটে নগরের সাগরদীঘির পাড় এলাকায় একটি জমির ভুমি বৈধ মালিকানা সত্ত্বেও দখলে যেতে পারছেন না বৈধ ভূমির মালিক। উপরন্তু দখলকারী দখল পাকাপোক্ত করার চেষ্টা হিসেবে পুলিশকে ব্যবহার করে জমির প্রকৃত মালিকদের নামে সাজানো মামলা, গ্রেফতার এবং নির্যাতন চালিয়ে যাচ্অছেন। এমন অভিযোগ তোলেছেন ভুমির বৈধ মালিক দাবিদার সামরান হোসেন চৌধুরী রাজু। তিনি বলেন, বর্তমানে জমির কেয়ারটেকার দেলোয়ার ও তার স্ত্রী পারভিনকে দিয়ে প্রলোভনের মাধ্যমে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে তোদের হয়রানীও করা হচ্ছে। শনিবার (২ আগষ্ট) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক লিখিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই অভিযোগ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জমির বৈধ মালিকানা দাবিদার সামরান হোসেন চৌধুরী রাজু জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে হিমাংশু রঞ্জন গুপ্তের নিকট থেকে ক্রয়সূত্রে বৈধভাবে জমিটি আমি সামরান হোসেন চৌধুরী রাজুসহ আরও কয়েকজন মালিক হই। তবে ক্রয়ের সময় জমিটির উপর এসটিএস গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দাবি ছিল, ওই গ্রুপটির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী টিপু মুন্সী। তবে ভুমি ক্রয়ের আগেই হিমাংশু রঞ্জন গুপ্তের অভিযোগের ভিত্তিতে এসটিএস গ্রুপের দলিল বাতিল ঘোষণা করেন আদালত৷ তারপরও স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী অবৈধ প্রভাব কাটিয়ে জমি দখলে রেখেছিলেন৷
কিন্তু ৫ আগষ্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের দৃশ্যপট পরিবর্তন হলে জায়গা থেকে বিতাড়িত হন টিপু মুন্সী। আর সুযোগ বোঝে সেই স্থানে নতুন করে যুক্ত হন স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা নজরুল ইসলাম বাবুল।সামরান হোসেন চৌধুরী রাজু গং দের দাবি-শিল্প পতি নজরুল ইসলাম বাবুল পুলিশের একাংশকে ব্যবহার করে জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করছেন এবং মালিকদের হয়রানি করছেন। অভিযোগ রয়েছে পুলিশও কাজ করছেন বাবুলের হয়ে।
এরই ধারাবাকিতায় পুলিশের বিরুদ্ধে জমির প্রকৃত মালিকদের নামে সাজানো মামলা, গ্রেফতার এবং নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। জমির কেয়ারটেকার দেলোয়ার ও তার স্ত্রী পারভিনকে দিয়ে প্রলোভনের মাধ্যমে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন সামরান। তিনি দাবি করেন সাজানো মামলায় দাখিলকৃত সিসিটিভি ফুটেজে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি বাদী অতীতেও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় একাধিক মিথ্যা মামলা করেছিলেন বলে জানান তিনি৷
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভূমিখেকোদের হয়ে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্টের একটি মিথ্যা মামলাও করা হয়। ওই সময়ে জমি মালিকদের বেশ কয়েকটি গাড়িও পুড়ানো হয়৷
সামরান অভিযোগ করেন, মূলত সেদিন নুরুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে পুলিশের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীরা জমি দখলের জন্য হামলা চালায়৷জমির মালিকরা সেখানে উপস্থিত না থাকলে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় আসামি করা হয় তাদের৷ এলাকাবাসীর সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পুলিশ “নিরাপত্তার অজুহাতে” জমি দখল করে রেখেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিক সামরান হোসেন চৌধুরী রাজু ও তার অংশীদাররা অবিলম্বে ভুমি থেকে পুলিশ সরানোর দাবি জানিয়েছেন৷
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: