পাঠদান ব্যাহত
তাহিরপুরে বিদ্যালয়ের টয়লেটের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাশাপাশি অবস্থিত দুটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটির অব্যবস্থাপনায় অন্যটির পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেট ও সেপটিক ট্যাঙ্কের উপচে পড়া মলমূত্রের তীব্র দুর্গন্ধে পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের পশ্চিম দেয়ালঘেঁষেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি, অফিস কক্ষ এবং প্রথম শ্রেণির পাঠদান কক্ষ অবস্থিত। বর্তমানে উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে এই টয়লেটটি ব্যবহার করছেন। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেপটিক ট্যাঙ্ক উপচে মলমূত্র চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে অসহ্য দুর্গন্ধ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হোসেন আহমদ তৌফিক জানান, তীব্র দুর্গন্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবারই নাভিশ্বাস উঠছে। অভিভাবক লুৎফুর রহমান লাকসাব বলেন, "দুর্গন্ধের কারণে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে পাঁচ মিনিট বসে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।"
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনআরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অফিস কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারের লোকজনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। তবে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফয়জুল হোসাইন জানান, তিনি দুই সপ্তাহ আগে বিষয়টি জানার পর শ্রমিকদের জীবাণুনাশক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। শ্রমিকরা তা পালন না করে থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। আশু সমাধান না হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: