মৌলভীবাজারে কাজের প্রলোভনে শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে বলাৎকার, অতঃপর..
Led Bottom Ad

মৌলভীবাজারে কাজের প্রলোভনে শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে বলাৎকার, অতঃপর..

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১৪/০৫/২০২৬ ১৪:৫০:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কাজের প্রলোভনে এক ১২ বছরের শিশুকে নির্জন জঙ্গল ও বাগানে নিয়ে ব/লাৎকার এবং পরবর্তীতে দা দিয়ে গ/লা কেটে হ/ত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনতা শিশুটির চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মুদি দোকানদারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটায় শিশুটিকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিনা—তা নিয়েও এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।


ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১২ মে)। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার (১৩ মে) সকালে পুলিশ বড়াইল জঙ্গল এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং দুপুরে অভিযুক্ত রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার ৪ নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর বাজারে অভিযুক্ত রুবেলের (৪০) একটি মুদি দোকান রয়েছে। রুবেল স্থানীয় খালপাড় এলাকার মৃত ময়না মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশু সাইফুল ইসলাম ছামি (১২) তার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। সে আলিমপুর গ্রামের মো: নুরুল ইসলামের ছেলে।


গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে রুবেল শিশুটিকে গাছ ও লাকড়ি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে দোকান থেকে বের করে নিয়ে যায়। রাত গভীর হলেও শিশুটি বাড়ি না ফেরায় এবং দোকান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বড়লেখা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।


ভিকটিম শিশু ও তার মায়ের দেওয়া জবানবন্দি এবং স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত রুবেল সুকৌশলে শিশুটিকে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বড়াইল জঙ্গল ও মীর খরলা এলাকার একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর রুবেল প্রথমে শিশুটির প্যান্ট খুলে ফেলে এবং তার ওপর পাশবিক নির্যাতন (ব/লাৎকার) চালায়।


এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে রুবেল একটি ধারালো দা বের করে শিশুটির গ/লায় ধরে তাকে জ/বেহ করার চেষ্টা করে। মৃ/ত্যুভয়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের বাড়ির লোকজন (নারী ও পুরুষ) ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতেনাতে শিশুটিকে রুবেলের কবল থেকে উদ্ধার করেন এবং রুবেলকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। 


ভুক্তভোগী শিশু ছামি জানায়:"আমারে তাইন (রুবেল) কইছন গাছ লইতা যাইতা। আমি কইলাম আমি যাইমু, আমারে আবার বাড়িত পৌঁছাইয়া দেওয়া লাগব। বাদে তাইন আমারে খরলার বাগানে নিয়া প্যান্ট খুলি লইছন। বাদে একটা দা লইয়া আমার গ/লাত ধরছন জ/বেহ করার লাগি। আমি চিৎকার দিলে বেটাইন-বেটিন (গ্রামের মানুষ) আইয়া আমারে বাঁচাইন।"


শিশুটির মা আকুল কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলেরে রাইত ৯টার সময় বাজার থাকি ফুশলাইয়া খরলার বাগানত নিয়া গেছে গে। গিয়া প্যান্ট খুলিয়া দা ধরছে মারিলাইতো করিয়া। বাদে বেটাইন-বেটিন মিলিয়া উদ্ধার করছইন। বাদে আমরা পুলিশ লইয়া গিয়া ছেলেরে আনছি। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।"


এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান:


"পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই তৎপরতা শুরু করে এবং ভিকটিম শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মুদি দোকানি রুবেলকে বুধবার দুপুরে আটক করা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় নারী ও শিশু নি/র্যাতন দমন আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় বড়লেখা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"


সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা ভারতে পাচারের চেষ্টা ছিল কিনা, সে বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।


তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad