লন্ডনের রাজনীতিতে সিলেটিদের নতুন ইতিহাস
Led Bottom Ad

টেমসের তীরে সুরমার জয়গান

লন্ডনের রাজনীতিতে সিলেটিদের নতুন ইতিহাস

ইফতেখারুল হক পপলু , বার্মিংহাম থেকে

১৩/০৫/২০২৬ ১৯:৫৭:৪৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

একসময় জীবিকার সন্ধানে সিলেটের প্রত্যন্ত জনপদ ছেড়ে হাজারো মানুষ পাড়ি জমিয়েছিলেন দূরদেশে। বুকভরা স্বপ্ন আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে তারা দাঁড়িয়েছিলেন টেমস নদীর তীরে। সেই প্রজন্মের ঘাম, সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার আজ নতুন ইতিহাস হয়ে ফিরেছে ব্রিটিশ রাজনীতির মঞ্চে।


“লন্ডন এখন সিলেটিদের দখলে”—দীর্ঘদিনের এই কথাটি এবার যেন আরও জোরালোভাবে সত্য প্রমাণিত হলো যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। পূর্ব লন্ডনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বরোতে একযোগে রেকর্ড ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দুটি গুরুত্বপূর্ণ বরোর নির্বাহী মেয়রের আসনেও বসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই নেতা।


এ যেন শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর প্রতিষ্ঠার গল্প।


টাওয়ার হ্যামলেটস—যাকে অনেকেই ‘মিনি সিলেট’ বলে চেনেন—সেখানে এবার যেন বিজয়ের উৎসব নেমে এসেছে। সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান–এর নেতৃত্বাধীন Aspire Party অর্জন করেছে অবিশ্বাস্য সাফল্য। বরোটির ৪৫টি কাউন্সিলর আসনের মধ্যে ৩৩টিতেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা, যাদের অধিকাংশের শিকড় সিলেটের মাটিতে।


সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। একসময় অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা এই মানুষটির জয় যেন আজ হাজারো প্রবাসী পরিবারের গর্বের প্রতীক।


অন্যদিকে নিউহাম বরোতেও রচিত হয়েছে নতুন ইতিহাস। ফরহাদ হোসেন যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল লেভার পার্টি থেকে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


ফরহাদ হোসেনের এই ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি নিউহাম বরোতে আরও ১৯ জন বাংলাদেশি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।


এ ছাড়া রেডব্রিজ এবং বারকিং এন্ড ডাগেনহাম বরোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটি নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। এই দুই বরোতে আরও ১০ জন বাংলাদেশি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করেছেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি একটি অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস। সুরমা-কুশিয়ারার পাড় থেকে টেমসের তীরে গিয়ে দাঁড়ানো মানুষগুলো আজ আর শুধু শ্রমজীবী প্রবাসী নন; তারা এখন ব্রিটিশ রাজনীতির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ।


একসময় যাদের হাতে ছিল স্যুটকেস আর স্বপ্ন, আজ তাদের উত্তরসূরিদের হাতেই লন্ডনের স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। টেমসের শহরে তাই আজ যেন শোনা যাচ্ছে সুরমার জয়গান।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad