টাঙ্গুয়ার হাওরে প্লাস্টিক চাঁইয়ের অবাধ ব্যবহার: হুমকিতে মৎস্য সম্পদ
Led Bottom Ad

টাঙ্গুয়ার হাওরে প্লাস্টিক চাঁইয়ের অবাধ ব্যবহার: হুমকিতে মৎস্য সম্পদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাহিরপুর

১৪/০৫/২০২৬ ১২:৩৪:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরগুলো আগাম পানিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে। আর এই নতুন পানির সঙ্গে হাওরে আসা মাছ শিকারে একশ্রেণির অসাধু জেলে মেতে উঠেছে নিষিদ্ধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী প্লাস্টিকের চাঁই ব্যবহারে। টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে অবাধে চলছে এই ক্ষতিকর যন্ত্রের ব্যবহার, যা দীর্ঘমেয়াদে হাওরের বাস্তুসংস্থান ও মৎস্য প্রজননকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের জেলেরা প্লাস্টিক মুড়িয়ে তৈরি এই বিশেষ চাঁই দিয়ে দিন-রাত মাছ শিকার করছে। পানির নিচে সারিবদ্ধভাবে ময়দার টোপ বা শামুক দিয়ে এই চাঁইগুলো পেতে রাখা হয়, যেখানে ধরা পড়ছে রেণু পোনা থেকে শুরু করে সব ধরনের ছোট মাছ। স্থানীয়রা জানান, আগে বাঁশের তৈরি চাঁই ব্যবহার হলেও খরচ কম ও স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় এখন প্লাস্টিকের চাঁইয়ের কদর বেড়েছে। তবে প্লাস্টিক অপচনশীল হওয়ায় এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া চাঁইগুলো পানিতেই ফেলে দেওয়ায় হাওরের তলদেশ ও জলজ প্রাণীদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার (পোহাস) সাধারণ সম্পাদক পীযূষ পুরকায়স্থ টিটু জানান, প্লাস্টিকের চাঁইয়ের ব্যবহার রোধ করতে না পারলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এদিকে পর্যটকরাও হাওরের এই বেহাল দশা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় জেলা শহর থেকে ট্রাক বা অটোরিকশায় করে এসব নিষিদ্ধ চাঁই অনায়াসে হাওর এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, "পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দ্রুত অভিযান চালানো হবে। যারা প্লাস্টিকের চাঁই ব্যবহারের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" হাওরবাসী ও পরিবেশকর্মীরা অবিলম্বে এই নিষিদ্ধ সরঞ্জামের মজুত ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad