ঈদের আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে
এক মাস পার হলেও কমেনি হাওরপাড়ের কান্না
সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন কেবলই পানি আর পচে যাওয়া ফসলের স্তূপ। টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট বিপর্যয় এক মাস পেরিয়ে গেলেও কৃষকের দুর্দশা কাটেনি। বুকসমান পানি আর পচা ধানের গন্ধের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকদের চোখে এখন কেবলই অন্ধকার। সামনে ঈদুল আজহা থাকলেও হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে নেই কোনো আনন্দ; উৎসবের সব প্রস্তুতি যেন পানির নিচেই তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখার হাওরপাড়ের রাবার বাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আবু বকর ১০ কেয়ার জমির মধ্যে মাত্র ২ কেয়ার ধান কাটতে পেরেছেন, বাকি সব এখনও পানির নিচে। রোদের অভাবে কেটে আনা ধানও পচে চারা গজিয়ে গেছে। নিজের ও গবাদিপশুর অন্নের সংস্থানে এখন অন্যের ফেলে দেওয়া খড় সংগ্রহ করে দিন কাটছে তাঁর। আবু বকরের মতো আব্দুল জাহানেরও একই অবস্থা; সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো তো দূরের কথা, ঈদ করার সামর্থ্যও হারিয়েছেন তিনি। অনেক কৃষক শ্রমিক সংকটে পড়ে নিজেদের সন্তানদের নিয়েই পচা ধান উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য খলিল রহমান বলেন, এই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া জরুরি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রোদের অভাবে কেটে আনা ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনপ্রতিনিধি ও ইউএনওদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ধরা হলেও স্থানীয়দের ধারণা এটি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ঈদকে সামনে রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চলছে বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: