শাল্লায় কালনী নদীর ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কালনী নদীর তীরের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার টুকচাঁনপুর থেকে প্রতাপপুর, ভেড়াডহর, মেধা ও মুসাপুর বাজার হয়ে শাল্লা পর্যন্ত এই দীর্ঘ এলাকায় ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ও সরকারি নানা স্থাপনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টুকচাঁনপুর, ফয়জুল্লাহপুর, বিষ্ণুপুর ও প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দারা এখন ভাঙনের সাথে যুদ্ধ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতাপপুর বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ দাস জানান, গত দুই বছরে নদী ভাঙনের কারণে তিনি তিনবার দোকান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বর্তমানে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য সামিজুল মিয়াসহ গ্রামবাসী নদী ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্লক বা ড্যাম্পিং ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো একাধিকবার পরিদর্শন করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। পাউবো শাখা কর্মকর্তা ওবাইদুল হক জানান, স্থায়ী ভাঙনরোধে একটি প্রতিরক্ষা কাজের ডিপিপি তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, ভাঙন কবলিত এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ২৩৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের চাহিদা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়ে আসলে এই এলাকার নদী ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: