ঘরে তোলা ধানও এখন পচা খড়
বৃষ্টির তোড়ে ধুলিসাৎ লাখাইয়ের কৃষকের স্বপ্ন
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার হাওরজুড়ে এখন আর সোনালি ধানের ঘ্রাণ নেই, বরং বাতাসে ভেসে আসছে পচা ধানের উৎকট গন্ধ। আগাম বন্যা আর টানা দশ দিনের অতিবৃষ্টিতে হাওরের কৃষকদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। খেতের ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর জীবন বাজি রেখে যা-ও কিছু সংগ্রহ করা হয়েছিল, রোদের অভাবে সেই ধান এখন খলায় স্তূপ করা অবস্থায় পচে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় জাঁক দেওয়া ধানের স্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, আর অধিকাংশ ধানে গজিয়েছে সাদাটে অঙ্কুর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গ্রামগুলোতে মাড়াই কলের শব্দ থেমে গেছে। কৃষকরা ধান শুকাতে না পেরে দিশেহারা। গোয়াখারা গ্রামের কৃষক ইলিয়াছ মিয়া পচে যাওয়া ধানের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, "এই ধান ঘরে তুলতে কত কষ্ট করেছি তা কেবল আমরাই জানি। রোদ নেই, ধান শুকাতে পারছি না। সব নষ্ট হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে বাঁচব কীভাবে?" একই আর্তনাদ কৃষক বাবুল মিয়ার, যিনি জানান, ধান পচে যাওয়ায় পাইকাররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, এমনকি সরকারি গুদামও 'মান ভালো না' অজুহাতে ধান নিচ্ছে না। ধানের পাশাপাশি গবাদিপশুর খড় পচে যাওয়ায় গো-খাদ্য নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে প্রকৃতির মার, অন্যদিকে বাজার ও সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার বৈষম্য তাঁদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ভিংরাজ মিয়া নামের এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান না নিয়ে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও দালালদের মাধ্যমে ঠিকই ধান গুদামজাত হচ্ছে। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পানির দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলায় এ বছর প্রায় ২ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার টন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করলেও, পচে যাওয়া ফসল আর ঋণের চাপে পিষ্ট কৃষকদের মনে এখন কেবলই হাহাকার।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: