মাছ ধরার লোভে কৃষকের পেটে লাথি, শাল্লায় বাঁধ কর্তন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এক চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মাণাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছে দুষ্কৃতিকারীরা। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার উদগল হাওরের নিয়ামতপুর ও জয়পুরের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে ছায়ার হাওরে পানি প্রবেশ করে কৃষকের শেষ সম্বলটুকুও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ দিকে বাঁধের এই অংশটি পরিকল্পিতভাবে কাটা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বিল বা হাওরে মাছ ধরার সুবিধা পেতে আশেপাশের গ্রামের কোনো অসাধু চক্র এই ন্যাক্কারজনক কাজ করে থাকতে পারে। বর্তমানে উদগল হাওরের পানি প্রবল বেগে ছায়ার হাওরে প্রবেশ করছে। এতে ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শাল্লা উপজেলার একমাত্র স্থল যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই বাঁধটি এখন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দীর্ঘশ্বাস এখন হাওরের বাতাসে। ছায়ার হাওরের কৃষক সবিনয় শীল সহ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, এমনিতেই অতিবৃষ্টিতে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন রোদ ওঠায় আশা জেগেছিল যে উঁচু জমির ধানগুলো অন্তত ঘরে তুলতে পারব। কিন্তু মানুষের তৈরি এই দুর্যোগ সব শেষ করে দিচ্ছে। বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকলে আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রোববার সকালে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাউবোর উপ-সহকারি প্রকৌশলী ওবায়দুল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। বাঁধটি পুনরায় মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং আজকের মধ্যেই পানির প্রবাহ বন্ধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তিনি জানান, বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি যারা এই জনস্বার্থবিরোধী কাজের সাথে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করা সুনামগঞ্জের কৃষকদের জন্য এই 'মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ' মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল মেরামত নয়, ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা রোধে বাঁধের নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: