সিলেটের ৬০ বছর বয়সি হাসারুন বেগমের জীবনযুদ্ধ
Led Bottom Ad

দেখার কেউ নেই

সিলেটের ৬০ বছর বয়সি হাসারুন বেগমের জীবনযুদ্ধ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১০/০৫/২০২৬ ১২:৫৬:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট সদর উপজেলার ৭নং হাটখোলা ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামের এক কোণে টিন আর বাঁশের তৈরি নড়বড়ে ঘরে একাকী বাস করেন হাসারুন বেগম। বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই হলেও ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে এই বয়সেও তাঁকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হচ্ছে জীবন বাঁচাতে। স্বামী মারা যাওয়ার পর দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তিন ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ ছেলেরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আলাদা সংসার পাতলেও গর্ভধারিণী মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়নি কেউ।

জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে এসেও থেমে নেই হাসারুন বেগম। অন্যের দুয়ারে হাত না পেতে তিনি বেছে নিয়েছেন বাঁশশিল্পকে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বাঁশ কেটে ও চেঁছে তৈরি করেন কুলা, ঝুড়ি, চালুনি ও হাতপাখাসহ বিভিন্ন সামগ্রী। স্থানীয় বাজারে এগুলো বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা খেয়ে না খেয়ে কাটছে তাঁর দিন। হাসারুন বেগম আক্ষেপ করে বলেন, "ছেলেদের মানুষ করতে অনেক কষ্ট করছি, এখন কেউ খবর নেয় না। নিজের হাত আছে, তাই কাজ করে খাই। বয়স ৬২ হয়নি বলে সরকারি বয়স্ক ভাতাও কপালে জোটেনি।"

হাসারুন বেগমের জীর্ণ ঘরে বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে, নেই ন্যূনতম আসবাবপত্র। অসুস্থ শরীরেও তাঁকে কাজ করতে হয়, কারণ কাজ না করলে তাঁর ঘরের চুলা জ্বলে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসারুন বেগমের মেয়ের বিয়েও হয়েছে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য তুলে। গ্রামবাসীর দাবি, অসহায় এই নারীর কষ্ট লাঘবে এবং শেষ বয়সে একটু স্বস্তি নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত এগিয়ে আসা প্রয়োজন। জনহিতৈষী কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি তাঁর পাশে দাঁড়ালে হয়তো জীবনের বাকি পথটুকু হাসারুন বেগমের জন্য সহজ হবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad