খাদ্য বিভাগের উদাসীনতায় কপাল পুড়ল সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর
Led Bottom Ad

অভিযোগ কৃষকদের

খাদ্য বিভাগের উদাসীনতায় কপাল পুড়ল সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১০/০৫/২০২৬ ১২:৩৪:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, খাদ্য বিভাগ সময়োচিত পদক্ষেপ নিলে তা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কাঁচা ও ভেজা ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুকানোর প্রস্তাব দিলেও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনীহায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে একদিকে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, অন্যদিকে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে অনেক কৃষক এখন দিশেহারা।

সরেজমিনে দেখার হাওরপারের ইসলামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আবু সালাম সড়কের ওপর রোদ্রে দেওয়া ধান বস্তায় ভরছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সরকার যদি ৮০০ টাকা মণ দরে আমাদের কাছ থেকে কাঁচা ধান কিনে চাতাল মালিকদের দিয়ে শুকিয়ে নিত, তবে আমরা কিছুটা রক্ষা পেতাম। এখন চারা গজানো এই ধান কেউ কিনতে চাইছে না।" একই দাবি মদনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল্লা মিয়ার। তিনি জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে ধান কিনে মিলারদের মাধ্যমে শুকানোর ব্যবস্থা করলে কৃষকরা অন্তত শ্রমিকের মজুরিটুকু তুলতে পারত। কিন্তু স্থানীয় ফড়িয়ারা দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে মণে মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা দাম হাঁকছে, যা দিয়ে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

এদিকে, কৃষকের এই আর্তনাদ শুনে ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান গত ২৯ এপ্রিল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবর একটি লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি আদ্রতার সীমা ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮-২৫ শতাংশ করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ভেজা ধান শুকানোর সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম মুশফিকুর রহমান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁরা এ ধরনের কোনো চিঠি পাননি। জেলা প্রশাসকের দাবি, মিলাররা কৃষকদের ভেজা ধান শুকিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও সমন্বয়হীনতায় শেষ পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হতে হলো সুনামগঞ্জের হাজারো কৃষককে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad