বিধানসভা ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছে রাজ্যপাল
মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি বিধানসভা ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৭টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে জালিয়াতি ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
রাজ্যপাল লোকভবন থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে জানান, ৭ মে থেকে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে সাংবিধানিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রীর পদে নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়ায় রাজ্যপাল এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ সংবিধান অনুযায়ী কোনো সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হতে পারে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক সচিব জওহর সরকার জানিয়েছেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যপালকে রাজ্যের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা আজ শুক্রবার বৈঠকে বসবেন এবং আগামীকাল ৯ মে (পঁচিশে বৈশাখ) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের আসন ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই পটপরিবর্তন ও বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাটি একটি নজিরবিহীন সাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: