বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
চা-বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ক্ষেপেছে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র
এটিএন বাংলার একটি টকশোতে চা-শ্রমিকদের সম্পর্কে মেজর জেনারেল মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ–এর বক্তব্যকে ‘অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।
সংগঠনটির সভাপতি সবুজ তাঁতী এবং সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় টেলিভিশনের টকশোতে চা-বোর্ড চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, চা-শ্রমিকরা দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা কাজ করেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত। সংগঠনটির ভাষ্য, এ বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দীর্ঘদিন ধরে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার চা-শ্রমিকদের জীবনসংগ্রামের প্রতি উপহাসের শামিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে চা-শ্রমিকেরা দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারদরের সঙ্গে এই মজুরির কোনো সামঞ্জস্য নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে শ্রমিকদের আট ঘণ্টারও বেশি সময় শ্রম দিতে হয়।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অনেক চা-বাগানে নিরাপদ কর্মপরিবেশেরও অভাব রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, বিশ্রামের স্থান কিংবা রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয় না। ফলে তাঁদের সংগ্রাম এখন শুধু মজুরি বৃদ্ধি বা ভূমির অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং মৌলিক মানবিক ও নাগরিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চা-শ্রমিকদের কাজের প্রতি অনীহা বা তাঁদের জীবনাচার নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ত্যাগকে অসম্মান করেছে। এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে দায়িত্বশীল মহলকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: