ফসলডুবিতে হাহাকার: রাজপথে নামলেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা
Led Bottom Ad

ফসলডুবিতে হাহাকার: রাজপথে নামলেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৮/০৫/২০২৬ ২১:০২:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সাম্প্রতিক অকাল বন্যায় ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া হাওরাঞ্চলের কৃষকদের বছরব্যাপী খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদানের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ। একইসঙ্গে সাধারণ মৎস্যজীবীদের অধিকার হরণকারী জলমহাল ইজারা প্রথা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছে হাওরাঞ্চলের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটি। ​শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে সুনামগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে কৃষকদের রক্ষায় সরকারকে চরমপত্র দিয়েছেন শ্রমিক কৃষক নেতৃবৃন্দ।

​বিকেল ৫টায় শহরের রায়পাড়াস্থ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এর অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ফসলডুবির দায় নিতে হবে কৃষক মারার ইজারা প্রথা বাতিল করো’ এমন সব স্লোগানে প্রকম্পিত হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। মিছিলটি আলফাত উদ্দিন চত্বরে পৌঁছালে সেখানে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাওরের কৃষক আজ কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার নয়, বরং বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও ভুল ব্যবস্থাপনার বলী। বক্তারা অভিযোগ করেন, একদিকে ফসলডুবিতে কৃষকের গোলায় ধান নেই, অন্যদিকে হাওরের জলমহালগুলো প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ মাছ ধরে জীবন ধারণের সুযোগটুকুও পাচ্ছে না। হাওরের কৃষক যখন না খেয়ে মরে, তখন ইজারা প্রথার নামে লুটপাট চলতে পারে না। কৃষকদের বাঁচাতে বছরব্যাপী সহায়তার পাশাপাশি ইজারা প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় এই আন্দোলন জেলাজুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে।

​সমাবেশ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হল, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক পরিবারকে পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা দিতে হবে। জলমহাল ইজারা প্রথা বাতিল করে সাধারণ মৎস্যজীবীদের জন্য হাওর উন্মুক্ত করতে হবে। লোকদেখানো বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করে নদী খনন ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে হাওরের বন্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

আন্দোলন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সৌরভ ভূষণ দেবের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন্দু তালুকদার মিন্টুর বলিষ্ঠ সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন।

​সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি এডভোকেট নিরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা সহ-সভাপতি আমির উদ্দিন, স-মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আইয়ুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া এবং সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিনন্দ কর প্রমুখ। ​সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সৌরভ ভূষণ দেব বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যদি দ্রুত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং ইজারা বাতিলের দাবি মানা না হয়, তবে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad