দিরাইয়ে জব্দকৃত ১৫২০ লিটার দেশীয় মদ ব্যবসায়ীর জিম্মায়
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জব্দকৃত ১৫২০ লিটার দেশীয় মদ আদালতের নির্দেশে জিম্মায় ফেরত পেয়েছেন লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী নিরঞ্জন সাহা। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং ৫ লক্ষ টাকার বন্ড দাখিলের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে দিরাই থানা কর্তৃপক্ষ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব মালামাল তার কাছে বুঝিয়ে দেয়।
নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি দিরাই থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৪(গ)/৩৭/৪১ ধারায় একটি মামলা (নং-০১) রুজু করা হয়। ওই অভিযানের সময় হারানপুর এলাকা থেকে ১৫২০ লিটার দেশীয় মদ জব্দ করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ৫ মে সুনামগঞ্জ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জসিমের আদালতে জিম্মার আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। জিম্মাপ্রার্থী নিরঞ্জন সাহার পক্ষে তার নিয়োজিত আইনজীবী শুনানিতে উল্লেখ করেন যে, তারা দীর্ঘ দিন ধরে বৈধ লাইসেন্সের (নং- ১৭৮/১৪) মাধ্যমে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের সিএসআই (CSI) জিম্মা প্রদানের তীব্র বিরোধিতা করলেও আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। মাননীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালত, সুনামগঞ্জ-এর ফৌজদারী রিভিশন মামলা (নং- ৯৫/২৬) মূলে ৩০ এপ্রিল প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু কঠোর শর্তসাপেক্ষে এই জিম্মা মঞ্জুর করা হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মালামাল হস্তান্তরের পূর্বে প্রমাণের সুরক্ষায় বেশ স্টিলের ড্রাম ও বোতল থেকে ল্যাব টেস্ট এবং ভবিষ্যতের জন্য মোট ১ লিটার ৫০০ গ্রাম (এবং প্রতিটি কন্টেইনার থেকে ১ লিটার করে) নমুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষণ করা হয়েছে। ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা মূল্যের জিম্মানামা বা বন্ড দাখিল করেছেন জিম্মাদার। আদালত তলব করা মাত্রই জব্দকৃত আলামত পুনরায় হাজির করতে জিম্মাদার আইনিভাবে বাধ্য থাকবেন। মালামাল হস্তান্তরের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানান, "আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ মেনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মালামাল জিম্মাদারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
উল্লেখ্য, দিরাইয়ের হারানপুর এলাকায় নিরঞ্জন সাহা, লিপি রানী সাহা ও নিখিল চন্দ্র সাহা সরকারি অনুমোদন নিয়েই দেশি মদের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। জিম্মায় পাওয়া এই মালামাল তাদের ব্যবসায়িক স্টক হিসেবে বৈধভাবে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: