সিলেটে হাম আতঙ্ক: বাড়ছে মৃত্যু, দ্রুত পদক্ষেপ ও গণসচেতনতার দাবি
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন ছিল। এ নিয়ে বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪১ জন ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা, শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় অনেক অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই জটিল অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। ফলে চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তাঁদের মতে, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বাড়ালেই হবে না, পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনো হামকে সাধারণ জ্বর বা মৌসুমি রোগ মনে করে অবহেলা করেন। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। এজন্য ইউনিয়ন, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হাম প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: