হাওড়ে চোখের সামনে ডুবে গেল কৃষকের সোনালী স্বপ্ন
Led Bottom Ad

হাওড়ে চোখের সামনে ডুবে গেল কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১৮/০৪/২০২৬ ১৩:৪২:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে আজমিরীগঞ্জের হাওড়জুড়ে এখন শুধু পানি আর পানি। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিস্তীর্ণ বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে। যে জমিতে সোনালি ধানের স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষকেরা, সেই জমিই এখন এক বিশাল জলরাশি।


উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে এর বড় একটি অংশ পানির নিচে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত পুরোপুরি পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও শুধু ধানের শিষের আগা দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও তাও নেই। পানির স্রোত আর জলাবদ্ধতায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল।


স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চৈত্রের শুরু থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। গত কয়েক দিনে তা আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে কয়েক দফা। এতে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় হাওড়ে একটি বাঁধ রক্ষায় কয়েক দিন ধরে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছিলেন। মাটি ফেলে, বাঁশের আড়া বসিয়ে বাঁধটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বুধবার হঠাৎ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে দ্রুত হাওড়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শত শত কিয়ার জমি তলিয়ে যায়।


কাকাইলছেওয়ে ইউনিয়নের আনন্দপুর হাওড়েও পানি ঢোকা শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওড় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে বদলপুর ইউনিয়নের কয়েকটি হাওড়ে পাকা ধানের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।


কিছু এলাকায় কৃষকদের কোমর পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে। শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে এমন ঝুঁকি নিচ্ছেন তাঁরা।


এক কৃষক বলেন, “চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এই ধানই ছিল বছরের একমাত্র ভরসা।”


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, নোয়াগড় হাওড়ে প্রায় ৮০ হেক্টর এবং কাকাইলছেওয়ে প্রায় ৪ হেক্টর জমি নিমজ্জিত বা আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানের প্রায় ৫ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।


হাওড়ের পানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের—এমন মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলের। তাঁদের মতে, টেকসই বাঁধ ও আগাম প্রস্তুতির অভাবেই বারবার ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad