ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা
হবিগঞ্জে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে ৫০০ পরিবার
হবিগঞ্জ পৌরসভার শায়েস্তানগর ও অনন্তপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ৫০০টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা তলিয়ে গিয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে ময়লা পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল, বাড়ছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। এর ওপর পুরাতন খোয়াই নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। ফলে ময়লা পানিতে মশার উপদ্রব ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী তামান্না চৌধুরী ও মুরুব্বি হারুন মিয়া জানান, বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। সামান্য বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢুকে যায় এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সাবেক ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিকুর রহমান সিতু বলেন, "পৌরসভার লেবার দিয়ে মাঝে মাঝে ওপরের ময়লা পরিষ্কার করা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হওয়ায় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। দ্রুত এস্কেভেটর দিয়ে ড্রেন ও পানি চলাচলের পথ খনন করা জরুরি।" এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, পুরাতন খোয়াই নদী ভরাট ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত নদী খনন ও ড্রেনেজ উন্নয়নের দাবি জানান।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীরা দ্রুত ড্রেনেজ সংস্কার, অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং এই সংকটের স্থায়ী নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: