দিশেহারা কয়েক হাজার কৃষক
হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ১৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি
হবিগঞ্জে গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার বানিয়াচং, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে পানির নিচে। পাকা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় ফসল পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বর্গাচাষি ও ঋণগ্রস্ত কৃষকরা এখন চরম দিশেহারা।
কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হওয়ার কথা বলা হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার বিঘা বা প্রায় ১৩৫০ হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বানিয়াচং উপজেলার উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরসহ সুজাতপুর ও ইকরাম এলাকার কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। গত এক সপ্তাহ ধরে রত্না নদীর বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
সুজাতপুর গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান ও ইকরামু গ্রামের বর্গাচাষি আহলাদ মিয়া জানান, ধার-দেনা করে চাষ করা ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছেন।
সুজাতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, রত্না নদীর উপচে পড়া পানিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান জানান, জমে থাকা পানি মূলত বৃষ্টির এবং নদীর পানি হাওরের তুলনায় উপরে থাকায় এই মুহূর্তে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষি বিভাগ নিয়মিত হাওর পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, জাইকা প্রকল্পের আওতায় সংযোগ খালগুলো পুনঃখনন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে।
বর্তমানে বোরো ফসলের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে হবিগঞ্জের হাওরপাড়ের কয়েক হাজার পরিবারে শোক ও হাহাকার বিরাজ করছে। কৃষকদের এই দুঃসময়ে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: