নেইমারের শেষ লড়াই
ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারের সময় যেন ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়তে থাকা এই তারকার সামনে এখন শেষ লক্ষ্য—২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করা। তবে সেই পথ বর্তমানে অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এবং ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলে ফিরতে হলে নেইমারকে হতে হবে ‘শতভাগ ফিট’, যেখানে অতীতের খ্যাতি বা গোলদাতার রেকর্ড কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না।
দীর্ঘ চোটের কারণে ২০২৫ সালের প্রায় পুরোটা সময় মাঠের বাইরে থাকা এবং লিগামেন্ট ইনজুরি পরবর্তী অস্ত্রোপচারের ফলে নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা আগের সেই ধার হারিয়েছে—এমনটি মনে করছে তাঁর ক্লাব সান্তোসও। যদিও নতুন বছরে কঠোর ডায়েট ও ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে নেইমার ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মিরাসোলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি এবং আনচেলত্তির সরাসরি পর্যবেক্ষণ এড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আনচেলত্তির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দলে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়কে কেবল ফিট থাকলেই হবে না, মাঠে তাঁর কার্যকারিতাও প্রমাণ করতে হবে, যার অভাব থাকায় সর্বশেষ স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি এই তারকার।
রোনালদো ও জিকোর মতো সাবেক লিজেন্ডরা নেইমারকে দলে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পারফরম্যান্সের চেয়ে শুধু ‘নামের ভারে’ কি তাঁকে দলে রাখা উচিত? নেইমারের সামনে এখন হাতেগোনা মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় রয়েছে, যার মধ্যে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি এখনও বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন; এটি এখন কেবল ফর্মে ফেরার গল্প নয়, বরং এক মহানায়কের নিজের শেষ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার মরণপণ লড়াই।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: