সিলেটে পর্যটকের ঢল, শতকোটি টাকার বাণিজ্যের প্রত্যাশা
ঈদের টানা ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনে মুখর হতে যাচ্ছে সিলেট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই অঞ্চলে এবারও বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসুর সমাগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে শত কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনাও দেখছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে মানুষের ভ্রমণ প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে স্বস্তির পরিবেশ থাকায় এবারের উৎসবকে ঘিরে উচ্ছ্বাসও বেশি। সেই উচ্ছ্বাসকে ঘিরে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত করা হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ’ হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলের পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও স্বচ্ছ পানির মিলন ভ্রমণকারীদের কাছে বরাবরই বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পান্তুমাই উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরও পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। সবুজ চা-বাগান, টিলাময় ভূপ্রকৃতি, ঝর্ণাধারা ও নিরিবিলি পরিবেশ মিলিয়ে এ অঞ্চল যেন প্রকৃতির এক অনন্য সমাহার।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এতে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় বসানো হচ্ছে বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে সিলেটের অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে ইতিমধ্যেই বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে—এমন আশাই করছেন ব্যবসায়ীরা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: