প্রকৃতির মোহনায় সাজছে সিলেট, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি কন্যা সিলেট। সবুজে মোড়া পাহাড়, অসীম বিস্তৃত চা-বাগান, আর কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির ধারা—সব মিলিয়ে সিলেট আজ এক জীবন্ত কবিতা। ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ’ নামে পরিচিত এই জনপদ যেন আপন রূপে পর্যটকদের আহ্বান জানাচ্ছে, “এসো, একটু প্রকৃতির কাছে ফিরে যাও।”
ভোরের কুয়াশা ভেদ করে চা-বাগানের ঢেউখেলানো সবুজ, জাফলংয়ের পাথরঘেরা নদীর স্বচ্ছ স্রোত, কিংবা বিছনাকান্দির পাহাড়ছোঁয়া মেঘ—প্রতিটি দৃশ্যই যেন চোখে নয়, হৃদয়ে গেঁথে যায়। রাতারগুলের নিস্তব্ধ জলাবনে নৌকায় ভেসে চললে মনে হয়, প্রকৃতি এখানে নিজেই গল্প বলে। আর পান্তুমাইয়ের ঝর্ণাধারা যেন দূর পাহাড় থেকে নেমে আসা এক অনন্ত সুর।
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এসব পর্যটনকেন্দ্রে এবারও মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিলেটের জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পান্তুমাইয়ের পাশাপাশি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওর—সবখানেই বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ।
এদিকে পর্যটকদের আগমনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটন খাতে আবারও প্রাণের সঞ্চার হবে—এমন আশায় বুক বাঁধছেন তারা। তাদের মতে, ঈদের এই মৌসুমে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে দেবে।
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনও নিয়েছে নানা উদ্যোগ। ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বসানো হচ্ছে বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে সিলেট। ঈদের এই ছুটিতে যে কেউ চাইলে শহরের কোলাহল ছেড়ে হারিয়ে যেতে পারেন সবুজের নিস্তব্ধতায়—যেখানে প্রতিটি বাতাসে মিশে থাকে শান্তি, আর প্রতিটি দৃশ্যে লুকিয়ে থাকে অনাবিল সৌন্দর্যের গল্প।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: