বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পণতীর্থের পথ, দুশ্চিন্তায় লাখো পুন্যার্থী
Led Bottom Ad

রাত পোহালেই স্নানোৎসব

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পণতীর্থের পথ, দুশ্চিন্তায় লাখো পুন্যার্থী

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৬/০৩/২০২৬ ২১:৩৭:৩৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

তাহিরপুরের পণতীর্থে—যাদুকাটা নদীর তীরে—রাত পোহালেই শুরু হবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় স্নানোৎসব। কিন্তু উৎসবকে ঘিরে লাখো পুন্যার্থীর মনে এখন আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও ভর করেছে। কারণ, সুনামগঞ্জ থেকে পণতীর্থগামী সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে সড়কের কাঁচা ডাইভারসন ও নির্মাণাধীন অংশগুলো কাদায় পরিণত হওয়ায় কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটেও চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।


স্থানীয়রা জানান, ধনপুর থেকে পুরানগাঁও পর্যন্ত সড়কের বহু জায়গায় বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সেই অংশগুলো এখন কাদার সাগর। যানবাহন তো দূরের কথা, অনেক স্থানে পায়ে হেঁটে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মঙ্গলবার ভোরে অনুষ্ঠিতব্য পবিত্র গঙ্গাস্নানে যোগ দিতে আসা লাখো তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।


ধর্মীয় আবেগে অটল পুন্যার্থীরা

প্রতি বছর চৈত্র মাসে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান। স্থানীয়ভাবে এটি “পণতীর্থ” নামে পরিচিত। বহু প্রাচীন এই তীর্থস্থানকে ঘিরে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। বিশ্বাস করা হয়, নির্দিষ্ট মুহূর্তে যাদুকাটা নদীতে পবিত্র স্নান করলে পাপমুক্তি লাভ হয়।


এবার স্নানের শুভক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ মার্চ (২ চৈত্র) মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৩ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই নদীতে পবিত্র স্নান সম্পন্ন করতে দূরদূরান্ত থেকে আগত তীর্থযাত্রীরা ভিড় জমাবেন। অনেকে আগের রাতেই রাজারগাঁওয়ের শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধামে এসে অবস্থান করেন এবং সারারাত ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ভক্তিমূলক আয়োজনে অংশ নেন।


বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত যাতায়াত

অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক কানন বন্ধু রায় জানান, বহু আগে থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সড়কের বেশ কিছু অংশে চলমান উন্নয়ন কাজ এবং সাম্প্রতিক তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে।


বিশেষ করে মোমেন বাজার থেকে পুটিয়া সেতু পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তিনটি সেতুর কাজ চলছে। এসব সেতুর পাশে অস্থায়ী ডাইভারসন সড়ক তৈরি করা হলেও বৃষ্টিতে সেই কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পলাশ বাজার থেকে ধনপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কেও রয়েছে অসংখ্য গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ।


বিকল্প হিসেবে নৌপথ

এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়াতে জেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আয়েশা আক্তার জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর থেকে নৌপথে তীর্থযাত্রীদের পণতীর্থে নেওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য আলাদা ঘাট তৈরি করা হবে এবং নিরাপত্তায় থাকবে নৌ-পুলিশের তিনটি দল।


নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী—

ফতেহপুর পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া: ১৭০ টাকা

লেগুনা ভাড়া: ১৫০ টাকা

মোটরসাইকেল: ২০০ টাকা

ফতেহপুর থেকে বিন্নাকুলি নৌকা ভাড়া: ১০০ টাকা (প্রতি ব্যক্তি)


কর্তৃপক্ষের আশ্বাস

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ‘প্রথম সিলেট’ কে জানিয়েছেন, সড়ক মেরামতের কাজ দ্রুত চলছে এবং প্রয়োজন হলে সারারাত কাজ করে হলেও পথটি চলাচল উপযোগী করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সোমবার সকাল নাগাদ অন্তত ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারবে।


তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এত অল্প সময়ের মধ্যে পুরো সড়ক নিরাপদ করা কঠিন। তবুও ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল পুন্যার্থীরা সব বাধা অতিক্রম করেই পণতীর্থে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


বৃষ্টি, কাদা আর ভাঙা পথের মাঝেও তাদের একটাই লক্ষ্য—যাদুকাটা নদীর পবিত্র জলে স্নান করে আত্মার পবিত্রতা লাভ করা।

এল আর রাজু

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad