প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা ও যানজটে দৃশ্যমান উন্নতি
Led Bottom Ad

প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা ও যানজটে দৃশ্যমান উন্নতি

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২২/১২/২০২৫ ১৩:২৫:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যেই নগরীর আইনশৃঙ্খলা, যানজট ব্যবস্থাপনা ও পুলিশি সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি করেছে পুলিশ। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং কার্যক্রমের ফলে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে এসএমপি।


গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিলেটকে একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আধুনিক স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানান।


এসএমপির তথ্যমতে, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অবৈধ চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় ১৫২ জনসহ বিভিন্ন অপরাধে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


এই সময়ে ৫৫০টি হারানো ও চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার, ৮৮ জন ভিকটিম উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি ও দেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। চিহ্নিত ছিনতাইকারী, চোর ও ডাকাতসহ ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৮০টি মামলা রুজু করা হয়েছে।


ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতির লক্ষ্যে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৬ হাজার ১৩৩টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এ সময়ে ৩ হাজার ৭৫৫টি মামলায় প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অবৈধ যানবাহন, অবৈধ স্ট্যান্ড ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


নগরবাসীর পুলিশি সেবা সহজ করতে কমিশনারের উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ ‘GenieA’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জরুরি সহায়তা ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অনলাইন জিডি, মামলা, সিসিটিভি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মহানগরের সব থানায় অ্যাপটি চালু ও হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।


পরিবেশ রক্ষায় ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যানজট কমাতে সিএনজি ও রিকশার ভাড়া নির্ধারণ, ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।


সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে মহানগরের ১১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সচেতনতা ও সামাজিকীকরণ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এতে মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, বাল্যবিবাহ, ট্রাফিক আইন ও পরিবেশ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।


এসএমপি জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পাচ্ছেন।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad