বালাগঞ্জে জলমহালে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ লুটের অভিযোগ
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় একটি জলমহালে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে বালাগঞ্জ উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি জলমহাল ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এতে অংশ নেয় সত্যপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সরকার নির্ধারিত কাঙ্ক্ষিত মূল্য দেওয়ায় জলমহালটি সত্যপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দেওয়ার জন্য তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার চন্দ সুপারিশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন ওই জলমহালটি সত্যপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে না দিয়ে শাহজালাল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা দেয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সত্যপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হলে গত ১ ডিসেম্বর জলমহালটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
অভিযোগ উঠেছে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শাহজালাল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লোকজন নিয়মিতভাবে জলমহাল থেকে মাছ ধরছেন। সত্যপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কটন বিশ্বাস বলেন, “হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে মাছ লুট করছে।”
তিনি আরও বলেন, শাহজালাল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লাইসেন্স ওসমানীনগর উপজেলায় সীমাবদ্ধ। সে ক্ষেত্রে তারা কীভাবে বালাগঞ্জ উপজেলার জলমহাল ইজারা পেল, তা তাদের বোধগম্য নয়।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর ব্যাপকভাবে মাছ ধরার খবর পেয়ে বালাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান।
বালাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুল্লাহ বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছ ধরতে নিষেধ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, “হাইকোর্টের কোনো আদেশসংক্রান্ত কাগজপত্র এখনো থানায় আসেনি। কেউ আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”
বালাগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, “বিষয়টি সম্প্রতি জেনেছি। তবে হাইকোর্টের কোনো কাগজ হাতে পাইনি। ইউএনও ঢাকায় আছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য হয়ে থাকে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: