হুমকির মুখে পরিবেশ
জৈন্তাপুরে থামছে না পাহাড়-টিলা কাটার মহোৎসব, প্রশাসনের নীরবতায় উদ্বেগ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না পাহাড় ও টিলা কাটার বেপরোয়া মহোৎসব। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সংঘবদ্ধ একটি চক্র দিন-রাত সমানতালে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে চলেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ফতেপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যেই চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই পাহাড় কাটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন টিলা ও পাহাড় কাটা বেড়েই চলেছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি ডাম্পার ট্রাকে করে কাটা টিলার মাটি বিভিন্ন স্থানে জমি ভরাটের কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পাহাড় ও টিলা ধ্বংসের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশে বসবাসরত পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, “পাহাড় কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করে নয়। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে যদি এভাবে পাহাড় কাটা চলতে থাকে, তবে আমরা আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হারাবো।” তিনি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, “আমি যোগদানের পর দুটি অভিযান পরিচালনা করেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর টিলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জৈন্তাপুরের পাহাড়ি পরিবেশ চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: