আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত সিলেটের একমাত্র সরকারি সুইমিং পুল
Led Bottom Ad

সংস্কার করে চালুর উদ্যোগ

আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত সিলেটের একমাত্র সরকারি সুইমিং পুল

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৭/১২/২০২৫ ১১:৩৭:৩৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরীর একমাত্র সরকারি সুইমিং পুল দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে এখন কার্যত আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় অবস্থিত সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের (সাবেক আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স) এই সুইমিং পুলটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সম্প্রতি এটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মিত হয়। ২০১৪ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ব্যাডমিন্টন কোর্ট, জিমনেসিয়াম, কাবাডি কোর্ট, ফুটবল মাঠ, আবাসিক হোস্টেল, লং টেনিস কোর্ট ও একটি আধুনিক সুইমিং পুলসহ নানা ক্রীড়া সুবিধা রয়েছে।

উদ্বোধনের পর কিছুদিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় সুইমিং পুলটি চালু থাকলেও পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি। এরপর থেকেই সুইমিং পুলটি বন্ধ রয়েছে।

মাঝখানে কয়েকবার সাঁতারের পরিবর্তে কনসার্ট ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এই স্থানে। এতে করে সিলেট নগরীতে অপ্রতুল জলাশয়ের মধ্যে সাঁতারের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় পুরো কমপ্লেক্স পানিতে তলিয়ে যায় এবং সুইমিং পুলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই এটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

সরেজমিনে ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সুইমিং পুলে পানি নেই। চারপাশে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। সুইমিং পুল সংলগ্ন বাথরুম ও চেঞ্জিং রুমগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য ইয়াহইয়া ফজল বলেন,“আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর সুইমিং পুলটি চালুর বিষয়ে ক্রীড়া পরিষদকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। চিঠির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি একটি টিম এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। দেশের আরও কয়েকটি সরকারি সুইমিং পুল দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল, সেগুলোও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি সিলেটের সুইমিং পুলটি সবার আগে চালু হবে।”

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদ্মাসন সিংহ বলেন, “এই সুইমিং পুলের অবকাঠামো এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে। এটি পুনরায় চালুর বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে আলোচনা করবো।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad